
সংসদে নিজ দলের ভূমিকা নিয়ে আবারো ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ বলেছেন, জনগণ আমাদের বিরোধী দল মনে করে না। মনে করবেই বা কি করে? আমরা কথা বলতে পারি না। আমি ১৭ অনুচ্ছেদের কারণে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারি না। তিনি বলেন, ব্যাংকের শত শত কোটি টাকা লুট হয়ে গেল? কোনো কিছু বের করতে পারলো না। ব্যাংকের ওপর মানুষের কোনো বিশ্বাস নেই। একদিন পরেই বাজেট আসছে। এই যে ঘাটতি? এই ঘাটতি জনগণ কেনো মিটাবে। এই টাকাতো জনগণের টাকা। কারা লুটপাট করছে। কারা এজন্য দায়ী। আজ পর্যন্ত তার কোনো হিসাব পেলাম না। আমরা কথা বলি অর্থমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থাকেন না।
আজ মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের ১৬তম অধিবেশনের প্রথমদিনে অনির্ধারিত এক আলোচনায় অংশ নিয়ে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ক্ষমতায় থাকলে দুটি জিনিসের অভাব হয় না। উপদেশ দেয়া আর চাটুকার তোষামদকারী এবং বাঁশ দেয়া। দেশে গণতন্ত্র চলছে। অবাধ গণতন্ত্র যে যা ইচ্ছা বলতে পারছেন। কিন্তু আসল ঘটনা কি সুশাসন আছে? কোথাও সুশাসন নেই। সুশাসন থাকলে এই অরাজকতা চলতো না। আজ সর্বক্ষেত্রে অরাজকতা। আমরা যাব কোথায়। এই সংসদে যা কিছু বলতে পারি বাইরে তার থেকেও কম বলি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে অশনি সংকেত চলছে। একটি পত্রিকায় এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী খেয়ে ফেলেছে মূলধন। অর্থাৎ রাষ্ট্রয়াত্ব ছয়টি ব্যাংক এবং একটি বেসরকারি ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি দুর্বলতা এতই প্রকট হয়ে পড়েছে মূলধন তো হারিয়েছিই ১৬ হাজার টাকা ঘাটতিতে পড়েছে। অর্থাৎ এই ব্যাংকগুলো যে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এর আগে আমরা দেখেছি বাংলাদেশ ব্যাংকে ৮০০ কোটি টাকা বিদেশ পাচার হয়ে গেছে। আর টাকা পাচার হলেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর ফলাফল আমরা কখনও দেখতে পাই না। এর মধ্যে আরো দু’টি ঘটনা ঘটে আর ওটা ধামাচাপা পড়ে যায়। এই ধামাচাপা পড়তে পড়তে ব্যাংকগুলোই একদম ধামাচাপা পড়ে গেছে। ফলে ব্যাংকের উপর জনগনের কোনো বিশ্বাস নেই।
কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ব্যাংকগুলোতে লুটপাট চলছে। এই লুটপাট সরকারের পাশের লোক না হলে কেউ করতে পারে না। এখন কথায় কথায় বলে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। যেখানে যাবেন শুধু চেতনা জাগে। সরকার ক্ষমতায় আসলেই এসমস্ত লোকের চেতনা জাগে। চেতনার অভাব হয় না। সমস্ত টাকা কুক্ষিগত করছে একটি মহল। ভিওআইপি’র নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এটা তো জনগনের টাকা। কারা লুটপাট করছে? কার এর জন্য দায়ী? আজ পর্যন্ত এই সংসদে এর কোনো জবাব পেলাম না। আমরা কথা বলি কিন্তু অর্থমন্ত্রী থাকেন না। অর্থ প্রতিমন্ত্রী থাকেন না।
তিনি বলেন, কৃষি ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, অগ্রণী, রূপালী ব্যাংক। এছাড়া মূলধন ঘাটতির তালিকায় আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের নাম রয়েছে। এসব ব্যাংকের মূলধন নেই। ব্যাংক চলবে কি করে?
ফিরোজ রশিদ বলেন, আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিলাম কিন্তু এবার খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছে। তার মধ্যে ব্যাংকে অবাধ লুটপাট চলছে। সরকারের কাছের লোক না হলে লুটপাট করতে পারে না। হিমালয়ের উপর ওঠে কেউ যদি মনে করে আকাশ অনেক কাছে কিন্তু আকাশ তো অত কাছে। সরকার মনে করছে জনগণ অনেক কাছে কিন্তু তা নয়। জনগণ এগুলো দেখে একজনকে বেছে নেয়।
No comments:
Post a Comment